প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর কান্ট্রি প্রতিনিধি দল গত রোবার ও সোমবার ( ২০ ও ২১ অক্টোবর ) দুই দিন ব্যাপী জলঢাকায় ইন্টিগ্রেটেড স্পন্সরশীপ প্রোগ্রাম-সিএনও এবং স্পন্সরশীপ প্রোগ্রাম নীলফামারী প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন নীলিমা ইয়াসমিন, হেড অফ কোস্টাল রিজিওন এ্যান্ড ন্যাশনাল প্রোগ্রাম; নোভা শামস, হেড অফ স্পন্সরশীপ কমিউনিকেশন; সায়েদুল হক, ইন্টিগ্রেটেড স্পন্সরশীপ প্রোজেক্ট ম্যানেজার; আশিক ফকির, এ্যাসিস্টেন্ট স্পন্সরশীপ ম্যানেজার; মনজুর আল খালেদ, এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং হাসিনুল কবির, এ্যাসিস্টেন্ট স্পন্সরশীপ ম্যানেজার।
ইএসডিও’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আবু জাফর নূর মোহাম্মদ, হেড অফ ফিল্ড অপারেশন এ্যান্ড ফোকাল প্ল্যান ফান্ডেড প্রজেক্ট, এবং মোঃ আব্দুল মান্নান, প্রোজেক্ট ম্যানেজার। প্রতিনিধি দল প্রকল্পের শিশু বিকাশ কেন্দ্র, সিবিও মিটিং, নিরাপদ প্রসব সেবা কেন্দ্র, কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক কাউন্সেলিং সেশন, কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কর্নার, ইয়ুথ লার্নিং সেন্টার এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা ও নাটক প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও কার্যক্রমের গুনগত মান দেখে অভিভূত হন। তারা ইএসডিও’র কর্মপ্রক্রিয়া ও কার্যক্রমের প্রতি ভূয়সী প্রশংসা করেন।
নীলিমা ইয়াসমিন বলেন, “শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলো কমিউনিটির অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে এবং অভিভাবকরা শিশুদের প্রতি অনেক সচেতন।” নোভা শামস কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, “শিশু বিকাশ কেন্দ্র, কিশোর-কিশোরী দলের কাউন্সেলিং সেশন, নিরাপদ প্রসব সেবা, ইয়ুথ লার্নিং সেন্টার সহ সবগুলো কার্যক্রমই অত্যন্ত চমৎকার।”
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
admin
জলঢাকায় লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্য প্রদর্শনী
মঙ্গলবার ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কর্তৃক বাস্তবায়িত স্পন্সরশীপ প্রোগ্রামের আওতায় নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে “লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, শিশু সুরক্ষা ও অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা” সৃষ্টির লক্ষ্যে এক নাট্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রদর্শনীতে ইএসডিও’র যুব নেটওয়ার্কের সদস্য মুন্নি আক্তার, কবিতা আক্তার, লুবা আক্তার, জাহিনুর, শাম্মী আক্তার, খোগেশ্বর, শাকিব, হৃদয় ও নবদ্বীপ অভিনয় করেন। নাটকের মূল বিষয়বস্তু ছিল লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
প্রায় ৩৫০ জন মানুষ, যার মধ্যে বিভিন্ন বয়সের শিশু, যুবক, কিশোর-কিশোরী, নারী, পুরুষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং এই সচেতনতামূলক নাটক উপভোগ করেন।
এই নাট্য প্রদর্শনীটি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়, যা এলাকার মানুষের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্য এবং শিশু সুরক্ষার বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিতরা।
উল্লেখ্য, ইএসডিও স্পন্সরশীপ প্রোগ্রামের আওতায় এই ধরনের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাপদ মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার উন্নয়ন বিষয়ক যৌথ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কর্তৃক বাস্তবায়িত রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফর্মেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি)-এর আওতায় নিরাপদ মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার উন্নয়ন উপ প্রকল্পের অধীনে ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার পারপুগী গ্রামে এক যৌথ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), ডেনমার্ক দূতাবাস (ড্যানিডা) এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান (প্রিয়াম), যিনি খামারিদের উদ্দেশে নিরাপদ মাংস ও দুধ উৎপাদনের উপর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভাপতিত্ব করেন আরএমটিপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ডা. বাবুল চন্দ্র বর্মন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভিসিএফ হাসানুর রহমান, ভিসিএফ মো. ওমর ফারুক, ভিসিএফ মো. আহসান হাবীব, ভিসিএফ পিটার কল্লোল বাগচী এবং এভিসিএফ মো. আলমগীর হোসেন। মাঠ দিবসের সঞ্চালনা করেন ভিসিএফ মো. হাসানুর রহমান। প্রায় দুই শতাধিক খামারি, প্রাণি খাদ্যের ব্যবসায়ী, ঘাস ব্যবসায়ী, লিড খামারি এবং ইএসডিও’র অন্যান্য উন্নয়নকর্মীরা এই মাঠ দিবসে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের পিএম আরএমটিপি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং লিড খামারিরা রেডিফিড, ঘাস, সাইলেজ ও পুষ্টি প্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত তাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। এছাড়াও লাকি কুপন আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ৩০ জন খামারিকে পুরস্কৃত করা হয়, যা খামারিদের মধ্যে আরও উৎসাহ যোগায়।
খামারিরা এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং জানান, তারা নতুন কিছু শিখতে ও জানতে পেরেছেন, যা তাদের খামারে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন। নিরাপদ মাংস ও দুধ উৎপাদনে তারা আরও সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
হেলদি ভিলেজ ইন আরবান প্রোগ্রামের উদ্যোগে লালমনিরহাটে নিরাপদ জল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় ওরিয়েন্টেশন
লালমনিরহাটে গত সোমবার ( ২১ অক্টোবর ) হেলদি ভিলেজ ইন আরবান প্রোগ্রাম (এইচভিইউপি) এর উদ্যোগে নিরাপদ জল ব্যবস্থাপনা, উন্নত স্যানিটেশন, বেবি ওয়াশ, কোভিড-১৯ পরবর্তী যত্ন এবং ৩৬০ ডিগ্রি স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক একটি ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ওরিয়েন্টেশনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সুস্থ জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান। এই সেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, সঠিক স্যানিটেশন, শিশুদের সুরক্ষামূলক যত্ন এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা বিষয় সম্পর্কে মূল্যবান জ্ঞান অর্জন করেন।
সেশনগুলো পরিচালনা করেন ওয়াশ ভ্যালু চেইন স্পেশালিস্ট, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর মোঃ আমিনুল ইসলাম মৃধা , প্রকল্প ব্যবস্থাপক, এইচভিইউপি, ইএসডিও মোঃ মাসুদ রানা এবং সোশ্যাল মোবিলাইজেশন অফিসার, এইচভিইউপি, ইএসডিও মোঃ জাহিদুল হক । অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং অংশগ্রহণকারীরা ওরিয়েন্টেশন শেষে নিজেদের মতামত ও পরবর্তী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদে গত সোমবার (২১ অক্টোবর ) দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কর্তৃক পরিচালিত Extended Community Climate Change Project-Drought (ECCCP-Drought) প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সিসিএজি গ্রুপের সদস্যদের খরা সহিষ্ণু ফল ও ফসলের চাষাবাদ, হোমস্টেড গার্ডেনিং, এবং ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও, অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্পের আওতায় পাওয়া ঋণ সুবিধা সম্পর্কেও বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।
প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ সৌরভ হোসেন। তিনি খরা প্রতিরোধে উপযোগী কৃষি পদ্ধতিগুলোর ব্যবহারিক দিক ও তাদের কার্যকারিতা সম্পর্কে উপস্থিত কৃষকদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কর্মশালাটি এলাকার কৃষকদের খরা মোকাবিলায় দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজনের পথে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইএসডিও মাইক্রোফিন্যান্স প্রোগ্রামের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এর উদ্যোগে মাইক্রোফিন্যান্স প্রোগ্রামের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের জন্য তিন দিনব্যাপী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণটি গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে শনিবার সমাপ্ত হয়। এই কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল মাইক্রোফিন্যান্স সেবাকে আরও উন্নত ও মানসম্মত করে তোলা এবং ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রোগ্রামকে আরও কার্যকর করা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইএসডিও’র ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার এন্ড হেড অব কমপ্লায়েন্স মোঃ জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য মাইক্রোফিন্যান্স কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের দক্ষতা বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
হেড অব মাইক্রোফিন্যান্স (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার শাহা বলেন, “মাইক্রোফিন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করতে কাজ করছি। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি আমাদের ম্যানেজারদের কাজে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হেড অব ট্রেনিং দেবাশীষ সরকার, ডেপুটি হেড অব ট্রেনিং সুজন খান, প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ট্রেনিং এন্ড কাউন্সিলিং) মোঃ শাহিন এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার ট্রেইনি করবী সিমু। তারা প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় ইএসডিও মাইক্রোফিন্যান্স প্রোগ্রামের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এবং ট্রেনিং এন্ড কাউন্সিলিং ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএসডিও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
